Friday, 4 November 2016

যেমন চালাও তেমনি চলি । যেমন বলাও তেমনি বলি ।।

যেমন চালাও তেমনি চলি । যেমন বলাও তেমনি বলি ।।
.
প্রসঙ্গঃ 'নিরীশ্বরবাদী হিন্দু' একটি সোনার পাথরববাটি, একটি ভণ্ড ভাবাদর্শ।
.
হিন্দুত্ব একটা সংস্কৃতির নাম, যা সম্পূর্ণভাবে আধ্যাত্মিক ভাবকে অবলম্বন করে গড়ে উঠেছে। যারা এই সংস্কৃতিতে সম্পৃক্ত তারাই হিন্দু; সে যে ধর্মেরই লোক হোক না কেন । হিন্দুধর্মে শাস্ত্র-পরিপন্থী মানুষদের ‘পাষণ্ড’ বলা হয় । পাষণ্ডতা ও নাস্তিকতা সমার্থক ।
.
যেটা আছে সেটাকে স্বীকার করে নেওয়াই হল ‘আস্তিক্য’ । .আর যেটা আছে সেটাকে অস্বীকার করাকে বলে ‘নাস্তিক্য’ । .নাস্তিক্যবাদ  একটি দর্শনের নাম । যাতে ঈশ্বর বা স্রষ্টার অস্তিত্বকে স্বীকার করা হয়না এবং যা সম্পূর্ণ ভৌত এবং প্রাকৃতিক উপায়ে প্রকৃতির ব্যাখ্যা দেয় । বস্তুত: আস্তিক্যবাদের বর্জন কেই নাস্তিক্যবাদ বলা যায় । নাস্তিক্যবাদ বিশ্বাস নয় বরং অবিশ্বাস এর ওপর প্রতিষ্ঠিত ।
.
বিশ্বাসকে খণ্ডন নয়, বিশ্বাসের অনুপস্থিতিই নাস্তিক্যবাদের মুখ্য উপজীব্য । ইংরেজি ‘এইথিজম’(Atheism) শব্দের অর্থ হল নাস্তিক্য বা নিরীশ্বরবাদ। Atheist শব্দটি সেই সকল মানুষকে নির্দেশ করে যারা মনে করে  ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই  । পশ্চিমের দেশগুলোতে নাস্তিকদের সাধারণ ভাবে ধর্মহীন বা পরলৌকিক বিষয় সমূহে ‘অবিশ্বাসী’ হিসেবে গণ্য করা হয় । আবার  বৌদ্ধ ধর্মের মত যেসব ধর্মে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হয় না, সেসব ধর্মালম্বীদেরকেও নাস্তিক হিসেবে বিবেচনা করা হয় । উল্লেখ্য, নাস্তিকরা  ব্যক্তিগত ভাবে যে কেউ, যে কোন মতাদর্শের সমর্থক হলেও, এদের মিল শুধুমাত্র এক জায়গাতেই, আর তা হল ঈশ্বরের অস্তিত্ব কে অবিশ্বাস করা ।
.
নাস্তিক্যবাদের ভিত্তি মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে । মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা কোন মতবাদ দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না । তাই এটা প্রায়ই দেখা যায় যে, আজ যে নাস্তিক, কাল সেই ব্যক্তিই চূড়ান্ত আস্তিক । তাই আমরা সচরাচর কোন আস্তিককে নাস্তিক হতে দেখি না । যে সত্যের স্বাদ পেয়েছে, সে কি আর মিথ্যার ঢিলে মাথা ফাটায় ? কক্ষনো না, কক্ষনো না, এসব কেবল কথার কথা; হাজার চেষ্টা করেও গোলাপফুল ফোটায় না কলমীলতা ।
.
এবার দেখেনি আমাদের দেশের নিরীশ্বরবাদীদের প্রকৃত চিত্রটা । বাস্তবে আমরা যে তথাকথিত নিরীশ্বরবাদীদের দেখি, এরা আস্তিকও নয়, আবার নাস্তিকও নয় । এরা দিনে নাস্তিক্যের বুলী আওড়ায়, ধর্ম সম্পর্কে বলে, “It is the opium of the people", এরা বলে, “Every religious idea and every idea of God  is unutterable vileness.” এরা বলে, “Spiritual idea of God decked out in the smartest ideological constumes”। এদের আদর্শ হল, -“The abolition of religion as the illusory happiness of the people is the demand for their real happiness. To call on them to give up their illusions about their condition is to call on them to give up a condition that requires illusions”.
.
কিন্তু রহস্যজনকভাবে এরাই কালীপুজোর রাতে খিচুড়ী-প্রসাদ খেয়ে উপবাস ব্রত ভঙ্গ করে । কোজাগরী লক্ষীপূজায় লুকিয়ে রাত জেগে পাঁচালী পড়ে । আর মাঝে মাঝে তারাপীঠে তারামা কে জবাফুলের মালা পরাতে গিয়ে ধরাও পড়ে । এই মূর্খরা ‘আর্যতত্ত্ব’ ও ‘অনার্যতত্ত্ব’ দিয়ে মানুষে মানুষে ভেদ সৃষ্টি করে, আর ‘শ্রেনীসংগ্রামে’ নেতৃত্ব দেয় ।
.
বিচার করলে দেখা যাবে, এরাই ‘শ্রেনী’ সৃষ্টি করছে, এরাই ‘ভেদ’ রচনা করছে, আবার এরাই ‘শ্রেনী-সংগ্রাম’ নামে একটি ভূয়ো লড়াই তৈরী করছে । এরা ধর্ম-নিরপেক্ষতার দোহায় দেয় বটে, কিন্তু এই পাষণ্ডদের কাছে ধর্ম-নিরপেক্ষতা মানেই হল হিন্দুধর্মের রীতি-নীতিগুলির বিরোধিতা করা । এরা ‘ধর্মতলা’য় গোমাংস খেতে পারে, কিন্তু রাজাবাজারে Pork খাবার সাহস দেখাতে পারে না । আবার এরা তাৎপর্যপূর্ণভাবে মহরম উপলক্ষে হাওড়ার মত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বাশা লাঠি বল্লম নিয়ে দৌড়া-দৌড়ি সম্পর্কে সম্পূর্ণ নীরব থাকে । এরা দূর্গাপুজো করেনা বটে, তবে ‘দূর্গোৎসব’ পালন করে । আবার ঈদের দিনে ‘ফেজ’ পরে ।
.
আমাদের দেশের নিরীশ্বরবাদীরা বেশিরভাগই ‘তথাকথিত নিরীশ্বরবাদী’ । .ধর্মপ্রাণ মানুষকে যারা বিদ্রুপ করে, তারা 'পাষণ্ড' ছাড়া আর কিছুই নয় । ভারতীয় সংস্কৃতি বা হিন্দু সংস্কৃতির পরিপন্থী এই পাষণ্ডগুলির কোন নীতি নেই । যাদের নীতি নেই তাদের সম্মান নেই । আর যাদের নিজেদেরই সম্মান নেই, তারা অন্য কাউকে অসম্মানিত করবে কি করে ? আসুরীবৃত্তির রুপরেখা রাবণ বা মহিষাসূর  কখনো সনাতন ধর্মকে 'কলঙ্কিত' করতে  পারেনি,  আর তাদের উত্তরসূরীরাও পারবে না ।
.
পরিশেষে বলা যায়, মানুষের জীবন কতকটা 'কাঠ'-এর মত । 'আস্তিক্যবাদ' সেই কাঠকে শুকিয়ে আগুন (জ্ঞানাগ্নী) জ্বালানোর উপযোগী করে তোলে । কিন্তু 'নাস্তিক্যবাদ' সেই কাঠকে ভিজিয়ে দেয় । ভিজে কাঠ কোন কাজে লাগে না ।
.
।।হরি ওঁ তৎ সৎ শ্রীরামকৃষ্ণার্পণমস্তু ।।